দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যাতায়াত ব্যবস্থায় দীর্ঘ সময় ধরে দাপট দেখিয়ে আসছে জাপানি অটোমেকার হোন্ডা মোটর। তবে এবার দৃশ্যপট বদলে যাচ্ছে। জ্বালানি তেলের ইঞ্জিনের পরিবর্তে বিদ্যুচ্চালিত বাহনের দিকে ঝুঁকছে কোম্পানিটি। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বসন্তেই ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের বাজারে নতুন ইলেকট্রিক টু-হুইলার ‘ইউসিথ্রি’ উন্মোচনের ঘোষণা দিয়েছে হোন্ডা। সরকারি বিধিনিষেধ ও পরিবেশগত উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ভিয়েতনামের ভোক্তাদের পছন্দের পরিবর্তনকে কাজে লাগানোই এখন মূল লক্ষ্য কোম্পানিটির।
হোন্ডার দাবি, নতুন স্কুটারটি এশিয়ার বাজারে অত্যন্ত জনপ্রিয় ১১০ সিসি পেট্রলচালিত ইঞ্জিনের মোটরসাইকেলের মতোই শক্তিশালী। একবার পূর্ণ চার্জ করলে এটি ১২২ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারবে। মডেলটির সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো এর ব্যাটারি। হোন্ডা প্রথমবারের মতো এতে ‘লিথিয়াম আয়রন ফসফেট’ ব্যাটারি ব্যবহার করেছে। এ ধরনের ব্যাটারি শুধু সাশ্রয়ীই নয়, বরং আগুনের ঝুঁকি কমিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী বাহনটিতে তিনটি ভিন্ন রাইডিং মোড থাকবে।
প্রাথমিকভাবে হোন্ডার থাইল্যান্ডের কারখানায় উৎপাদন শুরু হবে এবং পরবর্তী সময় ভিয়েতনাম প্লান্টেও এর বিস্তার ঘটানো হবে। তবে শুধু বাহন বাজারজাত করাই নয়, চার্জিং অবকাঠামো তৈরিতেও নজর দিচ্ছে হোন্ডা। ভিয়েতনামের হ্যানয়, হো চি মিন সিটি, দানাং ও থাইল্যান্ডের ব্যাংককে নিজস্ব ডিলারশিপ পয়েন্টগুলোয় চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে কোম্পানিটির। জাপানে প্রচলিত আন্তর্জাতিক চার্জিং মান ‘চাদেমো’ অনুসরণ করবে এ সিস্টেম। ১ হাজার ২০০ ওয়াটের চার্জারে মাত্র ২ ঘণ্টায় ব্যাটারি ২০-৮০ শতাংশ চার্জ করা সম্ভব হবে।
হোন্ডার বিদ্যুচ্চালিত বাহনে নতুন উদ্যোগের বড় কারণ হলো ভিয়েতনাম সরকারের নতুন কিছু নিয়ম। বায়ুদূষণ কমাতে আগামী জুলাই থেকে রাজধানী হ্যানয়ের মূল এলাকাগুলোয় পেট্রলচালিত মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর কড়াকড়ি শুরু হচ্ছে।
২০২৪ সালে ভিয়েতনামে বিক্রি হওয়া ২৬ লাখ ৫০ হাজার মোটরসাইকেলের মধ্যে হোন্ডার হিস্যা ছিল ৮০ শতাংশের বেশি, যার অধিকাংশই জ্বালানি তেলচালিত। ফলে নতুন সরকারি সিদ্ধান্ত হোন্ডার বড় বাজারটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
হোন্ডার নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট নোরিয়া কাইহারা সম্প্রতি জানিয়েছেন, সরকারি কড়াকড়ির আশঙ্কায় এরই মধ্যে নতুন মোটরসাইকেল ক্রয় কমিয়ে দিয়েছেন অনেক ভোক্তা। এ অনিশ্চয়তা কাটাতে এবং বাজারের নেতৃত্ব ধরে রাখতে দ্রুত ইলেকট্রিক সংস্করণে স্থানান্তর হওয়া ছাড়া হোন্ডার সামনে বিকল্প নেই।
ইউসিথ্রির দাম এখনো জানানো হয়নি। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হিসেবে এটি ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের বাজারে নতুন এক যুগের সূচনা করবে। খবর নিক্কেই এশিয়া